বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম আগস্টে দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ মাসভিত্তিক মূল্যসূচক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত মাসে মাংস, চিনি ও ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি খাদ্যশস্য ও দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যহ্রাসকে ছাপিয়ে গেছে। খবর রয়টার্স।
এফএওর মূল্যসূচক মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হওয়া খাদ্যপণ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, আগস্টে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্য মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৩০ দশমিক ১ পয়েন্টে, যা জুলাইয়ের সংশোধিত ১৩০ পয়েন্টের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে এক বছর আগের তুলনায় মূল্যসূচক বেড়েছে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে বিশ্বব্যাপী ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ইন্দোনেশিয়া আমদানীকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বায়োডিজেলে পাম অয়েলের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এ কারণে পাম অয়েলসহ সূর্যমুখী ও ক্যানোলা তেলের দাম গত মাসে বেড়েছে। যদিও পর্যাপ্ত সরবরাহের পূর্বাভাসে এ সময় তুলনামূলক কম ছিল সয়াবিন তেলের দাম।
বিশ্বব্যাপী টানা পাঁচ মাস ধরে কমছে খাদ্যশস্যের দাম। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে এফএওর খাদ্যশস্য মূল্যসূচক কমেছে দশমিক ৮ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশ ও রাশিয়ায় গম উৎপাদন বৃদ্ধি দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে পশুখাদ্য ও ইথানলের চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে ভুট্টার।
বিশ্বব্যাপী চালের দাম বেশ কয়েক মাস ধরে নিম্নমুখী ধারা বজায় রেখেছে। রুপির বিনিময় হার কমে যাওয়া ও রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির কারণে ভারতীয় চালের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। এছাড়া পর্যাপ্ত সরবরাহের প্রভাবে এশিয়ার অন্যান্য দেশেও উল্লেখযোগ্য কমে এসেছে খাদ্যশস্যটির দাম।
অন্যদিকে এফএওর দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এশিয়ার বাজারে চাহিদা কম থাকায় মাখন, চিজ ও ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের দাম কমেছে। পাঁচ মাসের দরপতনের পর আগস্টে চিনির দাম বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ। ব্রাজিলের আখ উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ ও বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাবে দাম বাড়লেও ভারত ও থাইল্যান্ডে ভালো ফলনের পূর্বাভাস রয়েছে।
এফএও পৃথক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক শস্য উৎপাদন রেকর্ড ২৯৬ কোটি ১০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এটি আগে দেয়া পূর্বাভাস ২৯২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তুলনায় বেশি। এছাড়া গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও মেক্সিকোয় রেকর্ড ফলন এবং আবাদি জমি বাড়ার কারণে ভুট্টার উৎপাদন বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে খরাপ্রবণ আবহাওয়া ও ফলন কমে যাওয়ায় ইইউভুক্ত দেশে উৎপাদন কমতে পারে।